জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ইএম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ গোয়েন্দা নজরদাড়িতে
আপলোড সময় :
১৯-০২-২০২৬ ০৩:৪৮:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০২-২০২৬ ০৩:৪৮:২৮ অপরাহ্ন
নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ইএম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ প্রকোশলী বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে। তার অবৈধ সম্পদের তালিকা সরকারের বিশেষ একটি সংস্থার হাতে। তাদেরকে দুদক কেন আইনের আওতায় আনছে না তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা চলছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রকৌশলীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তারা মামলাকে করছেন থোড়াই কেয়ার। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দপ্তর থেকে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করায় তারা আয়েশি জীবনযাপন করছেন। ফলে আওয়ামী দোসররা টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য আগের চেয়ে বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের অনেকেই ঢাকার বাইরে বদলি ছিলেন, তারা তদবির করে ঢাকায় ফিরছেন। অনেকে অসুস্থতার সাটিফিকেট, পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে ছুটি কাটাচ্ছেন।
জাতীয় গৃহায়নঅধিদপ্তর এখনো আওয়ামীপন্থী এসব প্রকৌশলীদের কব্জায়।
অনেক ঠিকাদার কাজের জন্য টাকা দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরছেন। কাজের জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীরা টাকা নিয়ে কাজ দেয়নি এমন অভিযোগ ভুরি ভুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৬ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অর্থ যোগানদাতার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাও হয়েছে। কিন্তু কোন মামলার তদন্তের অগ্রগতি নেই।
কথিত আছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আসামিদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠায় মামলার গতি থেমে গেছে।
পতিত সরকারের সুবিধাভোগী এই প্রকৌশলীরা এক সময় গ্রেফতার আতঙ্কে থাকলেও এখন তার আয়েশি জীবনযাপন করছেন। তার এখন মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সূত্র মতে, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। মামলা ও গ্রেফতার এড়াতে এসব প্রকৌশলী কাজে নিয়মিত নন। এতে করে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
থাকেন জাতীয় গৃহায়ন অধিদফতরে। কাজের চেয়ে নিজেদের মিটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই প্রকৌশলী।
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ও বাড়ি করেছেন। সময়ে গণমাধ্যমে এসব সংবাদ উঠে আসলেও কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উদাসীনতার কারণে এরা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন বিজ্ঞ মহল।
সূত্রমতে, এই প্রকৌশলী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে কোটি কোটি টাকা জোগান দিয়েছেন। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুন উর রশিদ হারুন, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও বিপ্লব কুমার সরকারকে অর্থের যোগান দিয়েছেন। এইসব বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কে অভিযোগ জমা দিবেন দৈনিক ভয়েজ নিউজ ।
অভিযোগে প্রকাশ, পতিত সরকারের আমলে দুর্নীতিতে সামনের সারিতে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তখন ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা,
শুধু তাই নয়, অনেকেই দাম্ভিকতা করে বলতেন যে তারা শেখ হাসিনার লোক। কেউ তাদের দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে লেখলে মামলার ভয় দেখানো হতো। এখনো একইভাবে চলছে তাদের ক্ষমতার দাপট। কেউ কেউ ভোল্ট পালটিয়ে বিএনপি পন্থী বনে গেছেন।
জানা যায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসার পর আন্দোলন ভণ্ডুল করার চেষ্টাকারীদের দোসর হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলীকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া চলছে ধীরগতিতে। এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, রামপুরা ও সাভার থানায় পৃথক হত্যা মামলা রয়েছে। মামলা হয়েছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও। মিরাজ আবার ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য। আবার ছিলেন সরাসরি গণভবনকেন্দ্রিক। দুর্নীতির বরপুত্র নির্বাহী প্রকৌশলী আজমল হক বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার হিসেবে আছেন। তিনি ঘুষ নিতেন প্রকাশ্যে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ইএম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ।
তবে তদন্ত সাপেক্ষে এদের সাথে আরো এক ডজন নাম আসামির তালিকায় যোগ হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের মাসিক মিটিংয়ে এসব আসামিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
রাজধানীর পল্টন, রামপুরা ও সাভার থানায় মামলা ছাড়াও ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন রাজধানীর ঝিগাতলার বাসিন্দা কে এম শাহরিয়ার শুভ। তিনি গণপূর্ত'র ঠিকাদার বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, যেসব ঠিকাদার পতিত সরকার আমলে ঠিকাদারি করেছেন তারা এখন ভোল্ট পালটিয়েছেন।
এ বিষয় দৈনিক ভয়েজ নিউজের অনুসন্ধানী চলছে
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স